ছেলেটা অনেক উদ্যম ছিলো। বন্ধুরা মজা করে যখন বলতো ইজেকশনটা ভালো করে শিখে নে, ছেলেটা শুধু একটা কথাই বলতো,

Whatever happen, I’ll never abandon my aircraft

যন্ত্রের উপর বিশ্বাস থাকলেও ভাগ্যের উপর বিশ্বাস নেই। একটা এয়ারক্রাফট ক্রাশ করতেই পারে, তবে ছেলেটা বিশ্বাস করতো, কোটি মানুষের পরিশ্রমের টাকায় কেনা বিমান জনগণ ও রাস্ট্রের সম্পদ। তাই প্রাণ ছাড়লেও বিমান ছাড়বো না।

২০১৫ সালের ২৯ শে জুন রেগুলার এক্সারসাইজের সময় ছেলেটি F-7MB যুদ্ধবিমান নিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হয়।

ছেলেটা ইচ্ছে করলে ইজেক্ট করে নিজেকে রক্ষা করতে পারতো। কিন্তু তা না করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমান টিকে রক্ষার চেস্টা করেছিলো। আজও ছেলেটির ডেড বডি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ছেলেটি ছেলেটির কথা রেখেছে, প্রাণ ছেড়েছে, বিমান ছাড়েনি ❤

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক সদস্য এই দুর্ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে উনি আমাদের যা জানিয়েছেন তা হলো,

“সকাল প্রায় ১১টা। নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে F7 যুদ্ধবিমান ফ্লাই করছে। আমরা নৌবাহিনী জাহাজ নিয়ে মাত্র জেটিতে ভিড়েছি।জাহাজ থেকে নেমে ক্যান্টিনে গেলাম সিগারেট ধরানোর জন্য। ফাইটারের প্রতি আমার আলাদা একটা আকর্ষন আছে। তাই যতবারই আমার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় ততবারই আমি তাকিয়ে থাকি দৃষ্টিসীমার বাইরে যাওয়া পর্যন্ত।

তো সেদিনও আমি ফাইটার গুলো কে দেখছিলাম আর সিগারেট খাচ্ছিলাম। তো একটা ফাইটার এয়ারপোর্টের দিক থেকে এসে জাস্ট আমাদের মাথার উপর দিয়ে প্রচন্ড গতিতে সমুদ্রের দিকে যেতে থাকে। এতই নিচু দিয়ে উড়ছিলো যে আর অল্প নিচ দিয়ে উড়লে শব্দে ক্যান্টিনের কাচের দরজা জানালা সব ভেঙ্গে যেত। এত নিচ দিয়ে ফাইটারকে ফ্লাই করতে দেখে আমার খুব ভাল লাগল। বাট আমি বুঝতে পারিনাই যে ওর ইঞ্জিনে প্রব্লেম হয়েছে আর পাইলট ফাইটার কে বাঁচানোর চেস্টা করছে।

৩ সেকেন্ডের মধ্যেই ফাইটার টা বহির্নোঙ্গরের কাছে গিয়ে সোজা উপরের দিকে প্রানপণে উঠতে লাগল এবং মেঘের আড়ালে চলে গেল। সবই দেখছিলাম আমি যখন আর দেখতে পাচ্ছিলাম না তখন আমি জাহাজে ফিরে যাওয়ার জন্য রওনা দেই। জাহাজে গিয়েই শুনতে পাই শর্ট নোটিশে জাহাজ কাস্টঅফ করতে হবে। তখনও কেউ জানতাম না যে কি ঘটেছে। জাস্ট এ ওয়ার সিচুয়েশন। কর্ণফুলী চ্যানেল দিয়ে জাহাজ তার সর্বোচ্চ গতিতে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এর মধ্যে জানতে পারলাম ফাইটার ক্রাশের কথা কিন্তু পজিশন টা কোথায় কেউ বলতে পারে না। তখন আমি জাহাজের নির্বাহী কর্মকর্তা কে ঘটনা টা বলি এবং সম্ভাব্য পজিশনের কথা বলি। তখন আমাকে বাইনোকুলার নিয়ে ফাইটার টা খোঁজার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়।

যখন আমরা বহির্নোঙ্গরে পৌঁছলাম তখন আমি কিছু ভাসমান বস্তু দেখতে পেয়ে রিপোর্ট করি এবং সেখানে যাই। আশেপাশের মার্চেন্টশীপ গুলোকে জিগ্যেস করলে তারা প্যারাসুট দেখেছে বলে কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না কোথায় প্যারাসুট টা পড়ছে। আমরা তখন শুধু একটা উইং উদ্ধার করতে সমর্থ হই। এরপর ৭টা জাহাজ টানা দশদিন খোঁজার পরেও আমরা আর কিছুই পাইনি। এভাবেই একটা জীবনের সমাপ্তি ঘটে। আমি কখনোই ঘটনাটি ভুলতে পারব না। কারন সব কিছুর প্রতক্ষ্যদর্শী একমাত্র আমি।”

 

Rumman Tahmid

এফ ৭ যুদ্ধবিমানের সামনে হাস্যজ্জল তাহমিদ

F-7 MB

এফ-৭ এমবি যুদ্ধবিমান

Tahmid Rumman

আমাদের তাহমিদ ❤

 

Facebook Comments

comments